মঙ্গলবার, ২৩ Jun ২০২৬, ০৯:৫৭ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

তথ্য অধিকার আইনেও তথ্য দিতে অস্বীকার আহমদ কবিরের

আহমদ কবির, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহেশখালী কলেজ (বামে) ও সানা উল্লাহ আইসিটি বিভাগে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক

জিকির উল্লাহ জিকু:

আইনকে তোয়াক্কা না করে মহেশখালী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আহমদ কবির তথ্য অধিকার আইনেও তথ্য দিতে অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানাযায়, গত ৩০ এপ্রিল জনস্বার্থে দৈনিক বাঁকখালী’র চীফ রিপোর্টার মুহাম্মদ জিকির উল্লাহ জিকু মহেশখালী কলেজের খন্ডকালীন শিক্ষক (আইসিটি) সানা উল্লাহ’র নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে তথ্য চেয়ে আবেদন করেন তথ্য অধিকার আইনের নির্দিষ্ট ফরমে। তিনি অদ্যাবধি মেইলেও রিপ্লাই করেনি। সরাসরি আবেদনের রিসিভও গ্রহণ করেনি। অথচ তথ্য অধিকার আইন বলে তিনি তথ্য দিতে বাধ্য।

আবেদন সূত্রে জানাযায়, তথ্য আইনে করা ওই আবেদনে খন্ডকালীন শিক্ষক (আইসিটি) সানা উল্লাহর মহেশখালী কলেজের নিয়োগের রেজুলেশন কপি, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পত্রিকা কপি, নিয়োগ পরীক্ষার মার্কসীট, নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র এবং শিক্ষাগতযোগ্যতার সকল সনদের সত্যায়িত ফটোকপির জন্য আবেদন করেন।

তথ্য পাওয়া নাগরিক অধিকার।তথ্য অধিকার আইনে তথ্য দিতে আইনগত তিনি বাধ্য। তথ্য প্রদানে অপারগ হলে, আবেদনকারীকে নির্ধারিত তথ্য আইনে লিখিতভাবে অবহিত করার নিয়ম আছে।না দেওয়া আইনের বরখেলাপ

মো. ইয়াছিন, সভাপতি, মহেশখালী কলেজ (পদাধিকার বলে) ও মহেশখালী উপজেলার নির্বাহী অফিসার ।

তিনি আরো জানান, ৩০ এপ্রিল মহেশখালী কলেজের মেইলে আবেদন করার পর নিয়য়ানুযায়ী আবেদনের রিসিভ কপি নিতে যান ওই প্রতিবেদক। তার আগে মহেশখালী কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আহমদ কবিরের কাছে ১২ মার্চ অফিসে গিয়ে সংবাদকর্মি হিসেবে সানা উল্লাহর নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়।
তথ্য না দেওয়ার বিষয়টি কলেজের সভাপতি (পদাধিকার বলে) মহেশখালী উপজেলার নিবার্হী অফিসার মো. ইয়াছিন কে অবগত করলে তিনি তথ্য অধিকার আইনে তথ্য নিতে পরামর্শ দেন। সে মোতাবেক গত ৩০ এপ্রিল তথ্য অধিকার আইনানুযায়ী মহেশখালী কলেজের মেইলে আবেদনটি পাঠানোর পর মূল কপি জমা দিয়ে রিসিভ কপি নিতে কলেজের অধ্যক্ষের কাছে গেলে তিনি (আহমদ কবির) রিসিভ কপি দিতে সরাসরি অপারগতা প্রকাশ করেন। ওই সময় তিনি এই আবেদন করার জন্য রাগতস্বরে মেজাজ দেখিয়ে বলেন কলেজের গোপন বিষয় কী জন্য দেব তোমাকে। তখন তাঁকে তথ্য অধিকার আইন মোতাবেক আবেদন করা হয়েছে স্মরণ করিয়ে দিলে প্রতিবেদকের পূর্বের (৩০ অক্টোবর দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ পত্রিকায় “মহেশখালী কলেজে অন্তহীন দুনীর্তি” রিপোের্টর তীব্রভাবে ব্যঙাত্মক সমালোচনা করে শেষে বলেন এগুলো কলেজের গোপন বিষয় তোমাকে কেন দেব, চলে যান (অফিস ত্যাগ করতে বলেন)। এসময় দৈনিক কক্সবাজার সংবাদ পত্রিকার মহেশখালী প্রতিনিধি সাহাব উদ্দিন সিকদার ও দৈনিক দেশ বাংলা পত্রিকার মহেশখালী প্রতিনিধি নুরুল করিম উপস্থিত ছিলেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে মহেশখালী কলেজের সভাপতি (পদাধিকার বলে) ও মহেশখালী উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. ইয়াছিল বলেন, তথ্য পাওয়া নাগরিক অধিকার।তথ্য অধিকার আইনে তথ্য দিতে আইনগত তিনি বাধ্য। না দেওয়া আইনের বরখেলাপ।

১২মার্চ মহেশখালী কলেজে প্রতিবেদক সানা উল্লাহর নিয়োগসংক্রান্ত বিষয় জানতে মহেশখালী কলেজে যাওয়ার পর তার ফেসবুকে ক্ষুব্দ হয়ে এই স্ট্যাটারস দেন।

যেভাবে নিয়োগ পান সানা উল্লাহ:
কলেজ সূত্র থেকে জানাযায়, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর নিয়োগ হয় সানা উল্লাহর।কলেজের ৩৬ তম অধিবেশনে সানা উল্লাহকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেন (তখন অধ্যক্ষ ছিলেন জসিম উদ্দিন বর্তমানে অবসরে), আবার ৩৭ তম অধিবেশনে (আইন সংশোধ হওয়ার পর) ইউএনও সভাপতি হলে তৎকালীন ইউএনও জামিরুল ইসলামের ১ম অধিবেশনে অনিয়মের কারণে স্থগিত করেন। তখন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছিলেন অধ্যাপক রহমত উল্লাহ। পরে ৩৮ তম অধিবেশনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে আহমদ কবির অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেওয়াপর ৩৯ তম অধিবেশনে সানা উল্লাহকে নিয়োগ দেন। তখন পদাধিকার বলে সভাপতি ছিলেন ইউএনও মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান।এই নিয়োগের আগে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের জনবলকাঠামোর ২০১৮/২১ বিধিমোতাবেক নিয়োগ দেয়া হয়েছে এমন তথ্যপ্রমাণ এখনো পর্যন্ত দিতে পারেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ। তাতে বুঝা যায় অনিয়মের মাধ্যমে এই নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।

খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের বিধান:

গভর্নিংবডি চাইলে নিয়োগ দিতে পারেন তবে প্রথমে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় থেকে অনুমোদন নেয়ার পর নিয়োগ কমিটি গঠন, পত্রিকা বিজ্ঞপ্তি প্রচার, তারপরে স্বচ্ছ পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ।

কলেজের আইসিটি প্রভাষক হওয়ার যোগ্যতা:

শিক্ষামন্ত্রাণলয় কতৃর্ক জারীকৃত পরিপত্রে—“বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা—২০১৮/২১” এ উল্লেখে আছে— প্রভাষক (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি), নিয়োগের জন্য শিক্ষাগতযোগ্যতা (নূন্যতম) স্বীকৃত বিশ^বিদ্যালয় হতে কম্পিউটার বিজ্ঞান/আইসিটি বিষয়ে ৪(চার) বছর মেয়াদি ২য় শ্রেণির স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অথবা স্বীকৃত বিশ^বিদ্যালয় হতে কম্পিউটার বিজ্ঞান/আইসিটি বিষয়সহ স্নাতক ডিগ্রি এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান/আইসিটি বিষয়ে ২য় শ্রেণির স্নাতককোত্তর ডিগ্রি। বর্ণিত সর্বশেষ ডিগ্রিতে নূন্যতম ২য় বিভাগ/শ্রেণি/সমমান থাকতে হবে এবং অন্যান্য ডিগ্রিগুলোতে ০১(এক) টির বেশি ৩য় বিভাগ/শ্রেণি/সমমান গ্রহণযোগ্য হবে না।

ভয়েস/জেইউ।

 

 

 

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION